দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে চীন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, “চীন ইউক্রেনে শান্তির জন্য সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে হওয়া ঐক্যমত্যসহ সব ধরনের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে।” তিনি আরও বলেন, “বিদ্যমান সংকটের রাজনৈতিক সমাধানে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে আগ্রহী চীন।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম মাসেই ইউক্রেন যুদ্ধ সংক্রান্ত নীতিতে পরিবর্তন আনেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে তিনি মস্কোর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরুর ঘোষণা দেন। এতে ইউক্রেনকে অগ্রাহ্য করেই রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা শুরু হয়।
গেলো মঙ্গলবার ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, তারা রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের জন্য আরও আলোচনা চালিয়ে যাবে। এরই মধ্যে সৌদি আরবে দুই দেশের মধ্যে পাঁচ ঘণ্টার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রাশিয়া ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ নিয়ে কঠোর দাবি জানায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীন বর্তমানে সরাসরি সক্রিয় ভূমিকা না নিলেও শান্তি আলোচনায় যুক্ত থাকতে চায়। মূলত, তারা যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্কের গতিপথ পর্যবেক্ষণ করছে, যা চীনের স্বার্থে প্রভাব ফেলতে পারে।
কার্নেগি রাশিয়া ইউরেশিয়া সেন্টারের পরিচালক আলেকজান্ডার গাবুয়েভ বলেন, “এই বিষয়ে চীন কোনও চাপের মুখে পড়তে চায় না। কারণ তারা জানে না ট্রাম্পের চাহিদাগুলো কী।”
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে এক বৈঠকে চীন-রাশিয়া সম্পর্কের বিষয়েও আলোচনা করেন ওয়াং ই। তিনি জানান, দুই দেশের সম্পর্ক উচ্চতর স্তরে এবং আরও বিস্তৃত মাত্রায় এগিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বুধবার তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে ‘স্বৈরশাসক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিশ্ব রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নতুন সমীকরণে ইউক্রেনকে উপেক্ষা করা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স