রাশিয়ায় হাসিনার নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের সন্ধান

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবশেষে দেশত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল তার একমাত্র বিকল্প, কারণ অন্যান্য উন্নত দেশগুলো তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিতে রাজি হয়নি। এমনকি রাশিয়ার স্যাটেলাইট রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত বেলারুশেও তিনি ঠাঁই পাননি।

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশিদের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে যে, শেখ হাসিনার বেনামে বিপুল সম্পদ বেলারুশে বিনিয়োগ করা হয়েছিল, যার মধ্যে একটি ফাইভ-স্টার হোটেলও রয়েছে। এ বিষয়ে অতীতে নানা আলোচনা হলেও নিশ্চিত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে শেখ হাসিনার জন্য একটি নিরাপদ প্রস্থান পথ খুঁজে বের করা সামরিক কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তিনি চান, নিরাপত্তা বাহিনীগুলো আরও কঠোর দমননীতি অবলম্বন করুক। বিশেষ করে পুলিশ বাহিনীর প্রশংসা করেন, যারা নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে গুলি চালাতে দ্বিধা করেনি। তবে, অতিরিক্ত দমনপীড়ন চালানো তখন আর সম্ভব ছিল না, কারণ লাখ লাখ আন্দোলনকারী গণভবনের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।

অবশেষে, সামরিক কর্তৃপক্ষ তাকে জানিয়ে দেয় যে, ৪৫ মিনিটের মধ্যে তাকে দেশত্যাগ করতে হবে এবং প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে হবে। প্রথমে শেখ হাসিনা রাজি না হলেও, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের মধ্যস্থতায় তিনি পদত্যাগ ও দেশত্যাগে সম্মত হন। জয়ও প্রথমে চরম ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেন, তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে মাকে চলে যেতে রাজি করান।

ভারত সরকার প্রথমে দ্বিধাগ্রস্ত থাকলেও শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিতে সম্মত হয়। বিশেষ সমঝোতার ভিত্তিতে তাকে দিল্লির নিকটবর্তী সামরিক বিমানঘাঁটি হিন্দানে বাংলাদেশি মালবাহী বিমানে করে নেওয়া হয়। জানা যায়, তিনি ১৪টি সুটকেস ভর্তি মূল্যবান সম্পদ সঙ্গে করে নিয়ে যান। ভারত সরকার তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে, তবে তার রাজনৈতিক কার্যক্রম ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের জন্য উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।

ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই শেখ হাসিনা একের পর এক বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছেন, যেখানে দাবি করছেন যে তাকে অন্যায়ভাবে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে। তিনি তার অনুসারীদের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে উসকানি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক মাধ্যমে তার সমর্থকরা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে, যা বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

জুলাই গণহত্যা নিয়ে জাতিসংঘের প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ পরিকল্পনা ও নির্দেশেই এই হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিরাপত্তা বাহিনীকে বিক্ষোভকারীদের গুলি করে হত্যা ও লাশ গুম করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। জাতিসংঘ এই ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

জাতিসংঘের রিপোর্ট প্রকাশের পর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে ভারত সরকারকে আহ্বান জানান, যেন তারা শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে বিচার মুখোমুখি করা হবে।

জাতিসংঘের রিপোর্ট প্রকাশের পর শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া নিয়ে ভারত আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই চাপের কারণে ভারত শেষ পর্যন্ত তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে বাধ্য হবে।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের স্বার্থে ভারতকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ কী হবে, তা সময়ই বলে দেবে, তবে তার বিচার নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এক ধরনের ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

Scroll to Top