বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় বিদ্রোহীদের নেতা ডিএডি তৌহিদ প্রধানমন্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ মির্জা আজম।
সোমবার বকশিবাজারের আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে বিডিআর বিদ্রোহের সময় হত্যা, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা ফৌজদারী মামলার ৩২১তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেওয়া শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আমাকে ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানককে বিষয়টির খোঁজ খবর নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়ার পর জীবনবাজী রেখে আমরা সেখানে যাই। পরে বিদ্রোহী বিডিআর সদস্যদের সঙ্গে আলোচনার পর তাদের দু’জনের গাড়িতে করে ডিএডি তৌহিদের নেতৃত্বে একদল জওয়ান প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন যমুনায় এসে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।”
মির্জা আজম বলেন, “এ সময় তারা সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে বৈঠক করতে অস্বীকৃতি জানালে কয়েক সেনা কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাদের কাছে জানতে চান, সেনাবাহিনীর অফিসাররা কেমন আছেন। এ প্রশ্নের উত্তরে ডিএডি তৌহিদ বলেছিলেন- তারা সবাই ভালো আছেন এবং নিরাপদ আছেন। তাদের এক রুমে রাখা হয়েছে। এরপর তারা তাদের নানা দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। পরে গাড়িতে করে তাদের পিলখানায় পৌঁছে দেওয়া হয়।”
গাড়িতে বিদ্রোহীদের সঙ্গে কোন কথা হয়নি বলেও জানান মির্জা আজম।
তিনি আরও জানান, তিনি যে মামলার স্বাক্ষী দিতে এসেছেন সেটি বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে একটি আলোচিত মামলা। মেজর থেকে শুরু করে ক্যাপ্টেন পর্যন্ত প্রায় ৫৬ জন সেনা কর্মকর্তা এক সঙ্গে নিহত হন, যা দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময়ও ঘটেনি।
তিনি বলেন, “ঘটনার পর বেলা ২টার দিকে আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পারি- সেনাবাহিনীর এক জওয়ান ও এক রিকশাচালক নিহত হয়েছেন। তবে বিকাল ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সময় আমি তা বলিনি। কারণ, ওই সময় পুরো ঘটনা জাতি জানে।”
এর আগে সকাল ১০টার সময় মহানগর দায়রা জজ মো. জহুরুল ইসলামের আদালতে মির্জা আজম স্বাক্ষ্য দিতে আসেন। এ সময় মামলার আসামি ডিএডি তৌহিদসহ ৮২০ বিডিআর জওয়ানকে আদালতে হাজির করা হয়।
তার জবানবন্দি শেষে মির্জা আজমকে জেরা করেন আসামি ডিএডি তৌহিদের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে আ্যাডভোকেট আনিসুল হক, মোস্তফা কাজল ও তার সহকারী আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। দুপুর ১টার দিকে সাক্ষীর জেরা শেষ হয়। এর পরে আলোচিত এ মামলায় আরও ৪ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত।
ডিএডি তৌহিদের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “আমার মক্কেল ডিএডি তৌহিদ একটি রুমে অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। এ কারণে পিলখানার ভেতরে কি হয়েছিল তা তার জানার কথা নয়। এছাড়া মির্জা আজম সাহেব বেলা ২টার দিকে হতাহতের খবর জানতে পারলেও তিনি দায়িত্ব পাওয়ার পরও প্রধানমন্ত্রীর নিকট তা বলেননি। এতে তিনি দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। যার কারণে খুনের ঘটনা বেশি হয়েছে। হতাহতের খবর আগে প্রধানমন্ত্রীকে জানালে হয়তো রক্তপাত বেশি হতো না।”