শায়খ আহমাদুল্লাহ ড. ইউনূসেকে খোলা চিঠিতে যা লিখলেন

জনপ্রিয় ইসলামী আলোচক ও আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি ইসলাম ধর্ম, মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর প্রতি কটূক্তি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ‘আল্লাহ ও রাসূল (সা.)-এর প্রতি কটূক্তি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান’ শীর্ষক চিঠিটি প্রকাশ করেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে ইসলাম ধর্ম, মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.)-এর প্রতি কটূক্তি করছেন। তিনি এসব কর্মকাণ্ডকে ‘সুপরিকল্পিত, দুরভিসন্ধিমূলক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা’ বলে উল্লেখ করেন।

বিশেষ করে পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন কমিটির একজন সদস্যের বিরুদ্ধে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। ওই ব্যক্তির বিতর্কিত ভূমিকা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া আপত্তিকর পোস্ট ‘আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছে’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, একই ধরনের কর্মকাণ্ড বারবার ঘটার কারণে দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে ‘যৌক্তিক ক্ষোভ, তীব্র অসন্তোষ ও হতাশা’ বিরাজ করছে। তিনি সতর্ক করেন, এই ক্ষোভের স্ফূরণ হলে ‘দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে এবং আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে।’

তিনি মনে করেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হলে জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে।

চিঠিতে শায়খ আহমাদুল্লাহ বর্তমান সরকারের প্রতি ধর্মপ্রাণ জনগণের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘‘বর্তমান সরকার গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত হয়েছে। শহীদদের অধিকাংশই ছিলেন ধার্মিক এবং ইসলাম ধর্মের সাম্যের বাণী তাদের আন্দোলনের প্রেরণা যুগিয়েছে। তাই সরকার জনপ্রত্যাশাকে সম্মান জানাবে, এটিই স্বাভাবিক প্রত্যাশা।’’

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘‘যদি সরকার জনগণের আবেগ-অনুভূতিতে আঘাত করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে জনগণের আস্থা নষ্ট হবে, যা ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।’’

কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি
শায়খ আহমাদুল্লাহ সরকারকে ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তার দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ।
ধর্ম অবমাননায় যুক্ত কাউকে সরকারি প্রকল্পে না রাখা।
আগে থেকে যুক্ত থাকলে বরখাস্তপূর্বক শাস্তির আওতায় আনা।
স্থায়ী সমাধানের জন্য ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে আইন প্রণয়ন।
চিঠির শেষ অংশে শায়খ আহমাদুল্লাহ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের প্রতি অনুরোধ জানান— অনতিবিলম্বে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে হবে যে ‘‘সরকার জনগণের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও বিশ্বাস রক্ষায় সম্পূর্ণভাবে সচেষ্ট থাকবে।’’

চিঠির শেষাংশে তিনি প্রধান উপদেষ্টার জন্য দোয়া করেন এবং তার কল্যাণ কামনা করেন।

তথ্যসূত্র: কালের কণ্ঠ

Scroll to Top