ঢাকায় ব্যবসা করবেন ট্রাম্প-মাস্ক-জাকারবার্গ, লাইসেন্স দিল ডিএনসিসি!

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) থেকে ভুয়া ই-ট্রেড লাইসেন্স নেয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, টেসলার প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক ও ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের মত নামিদামি ব্যক্তির নাম দেয়া হয়েছে। তবে ডিএনসিসির প্রশাসক বলছেন, এটি ট্রয়ালের একটি অংশ।

দেখা গেছে, কাঁকড়ার ব্যবসা করতে গত ১১ মার্চ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম, ঠিকানা ও ছবি দিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) থেকে একটি ই-ট্রেড লাইসেন্স নেয়া হয়। লাইসেন্সে মালিকের ব্যক্তিগত তথ্য ও ঠিকানা সবই দেয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের হলেও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ঠিকানা ঢাকার আফতাবনগরে।

একইভাবে ইলন মাস্কের নামেও নেয়া হয়েছে একটি লাইসেন্স। ইলন মাস্কের ছবি ব্যবহার করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম দেয়া হয়েছে টুইটার। ব্যবসার ধরনে লেখা হয়েছে ডায়াগনস্টিক, রেস্টুরেন্ট (এসি), হাসপাতাল। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে- মার্কেট স্কয়ার ১৩৫৫, সানফ্রান্সিসকো যুক্তরাষ্ট্র। আর অঞ্চল দেয়া হয়েছে রাজধানীর ভাটারা।

এ ছাড়া ডিএনসিসি থেকে মার্ক জাকারবার্গের নামে একটি ভুয়া ই-ট্রেড লাইসেন্স নেয়ার কথাও জানা গেছে। এখানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম দেয়া হয়েছে মেটা প্ল্যাটফর্ম, ইনকরপোরেটেড। প্রতিষ্ঠানের ধরন দেয়া হয়েছে কারখানা, খাদ্য উৎপাদনকারী, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, রেস্টুরেন্ট (এসি), হাসপাতাল। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা দেয়া হয়েছে মেনলো পার্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ৯৪০২৫। অঞ্চল দেয়া হয়েছে রাজধানীর ভাটারা।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএনসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘‘আমারাই ট্রায়ালের (পরীক্ষা) জন্য এমন কয়েকটা লাইসেন্স করেছি। দেখেছি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে যেকোনো নাম ও ঠিকানায় ট্রেড লাইসেন্স হয়ে যাচ্ছে। এই ধরনের ভুয়া ই-ট্রেড লাইসেন্স বন্ধ করতে আমাদের ওয়েবসাইট টেকনিক্যালি আরও উন্নতি করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বার, রেস্টুরেন্ট, ফায়ারসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু লাইসেন্স আমরা অনলাইন আবেদনেই দিচ্ছি না। ম্যানুয়ালি তিন স্তরে যাচাই বাছাইয়ের পর দেয়া হবে। তবে ট্রেড ও অন্যান্য লাইসেন্সের ক্ষেত্রে আমরা এই স্বাধীনতা দিচ্ছি। স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইস্যু হওয়া লাইসেন্সে লেখা থাকবে ‘এটি একটি সিস্টেম জেনারেটেড ই-ট্রেড লাইসেন্স’। সেখানে কোনো কর্মকর্তার স্বাক্ষর থাকবে না। আবেদনকারী কোনো ভুল কিংবা মিথ্যা তথ্য দিলে লাইসেন্সটি বাতিল হবে। আবাসিক এলাকার ঠিকানায় ই-ট্রেড লাইসেন্স করলে তাও বাতিল হবে।’

Scroll to Top