ভারতকে মংলা বন্দর থেকে হটালো চীন

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মংলার উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন প্রকল্পে চীন সরাসরি সম্পৃক্ত হয়েছে। ভারতের ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড (আইপিজিএল) প্রকল্প থেকে সরে যাওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার চীনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে। এই আলোচনার ফলশ্রুতিতে ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ চীনের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশনের (CCCC) মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

মংলা বন্দরকে একটি আধুনিক, স্বয়ংক্রিয় এবং পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন পোর্ট’-এ রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য ৪,০৬৮ কোটি ২২ লাখ ৭২ হাজার টাকা বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে।

উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে:

৩৬৮ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি নতুন কন্টেইনার জেটি নির্মাণ
লোডেড ও আনলোডেড কন্টেইনার সংরক্ষণের জন্য বিশেষ ইয়ার্ড স্থাপন
অটোমেটেড কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সিস্টেম চালু করা
ভবিষ্যতে বন্দরটিকে কোল্ড পোর্টে রূপান্তরের পরিকল্পনা
প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এবং শেষ হবে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরে।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল মংলা বন্দর সম্প্রসারণে ভারতের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর বিষয়টি নিয়ে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাকাত হোসেন বলেন, “আমরা অনন্তকাল বসে থাকতে পারি না। প্রধান উপদেষ্টার চীন সফরের পর অর্থ ছাড় দ্রুত হবে বলে আশা করছি।”

মংলা বন্দরের এই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল থেকে আম, কাঠালসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য সরাসরি চীনে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে। নৌপরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্দরের আধুনিকায়নের ফলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করছে, এই উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হলে মংলা বন্দর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

তথ্যসূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ।

Scroll to Top