হাতিয়ার মানুষের পকেটের দিকে যারা হাত বাড়াবে তাদের হাত ভেঙে দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ।
সোমবার (৩১ মার্চ) রাতে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নে ঈদ আনন্দ মিছিল শেষে বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ঈদের পরেই নদী ভাঙ্গনরোধে হাতিয়ার বিভিন্ন স্থানে বস্তা পড়বে। এই সুযোগ কেবল আমার সঙ্গে যারা চলে তাদের জন্য নয়। এটি হাতিয়ার সবার জন্য। এই যে ৩০০ টাকা স্পিডবোট ভাড়া নিচ্ছে এটা হাতিয়ার সবাই ভোগ করছেন। শুনেছি লাগেজ প্রতি ৪০০-৫০০ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে কোনো এক নেতা। সে সব নেতাকে বলে দিচ্ছি আমার হাতিয়ার মানুষের পকেটের দিকে যারা হাত বাড়াবে তাদের হাত ভেঙে দেওয়া হবে। মোহাম্মদ আলী (আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি) হতে যাইয়েন না। মোহাম্মদ আলীর পরিণতি দেখেন। ঘাট বাণিজ্য করে কোটি টাকা কামিয়ে মশা মারার মেশিন নিয়ে ঘুরতেসে। এসব কাজে আসবে না।
আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, আমি আজকে বলছি, হাতিয়ার জন্য আজকে খবর এসেছে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়েল এনার্জি উৎপাদনের ব্যাপারে একমত হয়েছে। তারা ১৫ মেগাওয়াটের ওয়েট এনার্জি উৎপাদন করবে।
হাতিয়ার সমুদ্র সম্পদকে কাজে লাগিয়ে হাতিয়ার মানুষকে আমরা অর্থ বিত্ত করে দেব ইনশাআল্লাহ। হাতিয়ার মানুষের ব্লু ইকোনমি বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ব্লু ইকোনমি হবে। এই ব্লু ইকোনমি কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ উন্নত হবে। হাতিয়ার আশপাশে যে চর উঠবে তা আর কোনো ভূমিদস্যুকে খেতে দেওয়া হবে না। অন্তত হান্নান মাসউদ বেঁচে থাকতে সেই স্বপ্ন আর দেইখেন না। আমরা মানুষের মুক্তির লড়াই করি। আমরা মানুষকে মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছি, আমাদের এ সংগ্রাম চলমান আছে এবং থাকবে ইনশাআল্লাহ।
সমর্থকদের উদ্দেশ্যে হান্নান মাসউদ বলেন, কেউ আমাকে গালি দিক কিন্তু কারো গায়ে হাত তুইলেন না। কাঁধে হাতে দিয়ে বুঝিয়ে বলবেন ভাই কেনো গালি দিয়েছেন। মানুষকে সমালোচনা করতে সুযোগ দেবেন বেশি বেশি সমালোচনা করলে আমরা পরিশুদ্ধ হব। কারো সঙ্গে বিরাগ বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়বেন না। আমরা হানাহানির রাজনীতি বন্ধ করেই ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। আমরা মারামারির রাজনীতি বন্ধ করবো। আমরা লাঠালাঠির রাজনীতি বন্ধ করবো। এর মধ্য দিয়ে হাতিয়ার মানুষের মুক্তি মিলবে।
তিনি বলেন, সে দিন আমাদের গায়ে হাত তুলেছিল আমরা হাজার হাজার মানুষ থাকা সত্ত্বেও তাদের সঙ্গে আমরা মারামারি করি নাই। মারামারি করলে দিন দিন মারামারি বাড়তে থাকবে। আমরা শান্তি চাই। তাই শান্তিপূর্ণ হাতিয়া গড়ে তুলবো। এই হাতিয়াকে দেখে সারাদেশের উপজেলা হাতিয়াকে হিংসা করবে।
আনন্দ মিছিলে জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য মো. ইউসুফ রেজা, তৌহিদুর রহমান, মো. ইসমাইল এবং হামিদুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।