২ ভাই পড়তো একই স্কুলে: সকালে ছুটি হওয়ায় বেঁচে গেল ছোট ভাই

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ওয়ার্শি ইউনিয়নের নগরভাতগ্রাম গ্রামের রুবেল মিয়ার ছেলে তানভীর আহমেদ ও তাশরীফ আহমেদ। দুজনেই পড়তো মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে। পড়াশোনার সুবাদে পরিবারের সবাই উত্তরায় বাসা ভাড়া করে থাকতেন। তানভীরের বাবা সেখানেই ব্যবসা করতেন।

সকালে দুই ভাই স্কুলে যায়। তাশরীফের স্কুল ছুটি হওয়ায় বাড়িতে চলে আসে। আর বড় ভাই তানভীর ছুটি না হওয়ায় ক্লাস করতে থাকে। হঠাৎই আসে বিমান দুর্ঘটনার খবর। স্বজনরা ছুটে যান হাসপাতালে। সেখানে গিয়ে তানভীরকে আহত অবস্থায় পান তারা। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। সকালে ক্লাস থাকায় প্রাণ রক্ষা পায় তাশরীফের।

তানভীরের চাচাতো ভাই খাইরুল হাসান বলেন, স্কুলে হঠাৎ বিমান দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। আমি তানভীরকে দেখে প্রথমে চিনতে পারি। পরে তাকে ঢাকার বার্ন ইউনিটে নিয়ে যায় উদ্ধারকারীরা। সেখান থেকে রাতে আমরা লাশ বুঝে নিই।

ছোট বেলা থেকেই তানভীর মেধাবী ছিল। স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করবে। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।

খাইরুল হাসান বলেন, তানভীর সব সময়ই ক্লাসের টপার ছিল। অনেক মেধাবী ছিল। তার স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে চিকিৎসক হবে, মানুষের সেবা করবে। কিন্তু তার স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই এমন মৃত্যু হলো। আমরা তার মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না। রাতেই নিহতের লাশ বাড়িতে আসবে।

তানভীরের এলাকায় বইছে শোকের মাতম। আশপাশের শতশত লোকজন ভিড় করছে বাড়িতে। ঢাকা থেকে তানভীরের বা-মা লাশ নিয়ে রওনা হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে জানাজা শেষে লাশ স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে।

এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ বি এম আরিফুল ইসলাম বলেন, এটি একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা। আমরা সবাই মর্মাহত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তানভীরের পরিবারের পাশে আমরা থাকবো।

Scroll to Top